গান হারাম না কিন্তু...
》 শরীয়ত অনুযায়ী গান হারাম নয় কিন্তু....
ইসলামের দৃষ্টিতে গান নিষিদ্ধ না হলেও "বাদ্যযন্ত্র" সরাসরি হারাম রয়েছে। গান বলতে সেটা বোঝানো হয়, যেটা কেউ খালি গলায় কোন কথাকে সুর দিয়ে যদি উপস্থাপন করে বা ছন্দ আকারে উপস্থাপন করে(কবিতা) । আর বাদ্যযন্ত্র: যে কোনো কিছু যা পরস্পর নিজেদের মধ্যে ক্রিয়া করে শব্দ সৃষ্টি করে তাকেই বলে বাদ্যযন্ত্র যেমন: গিটার, তবলা ইত্যাদি। আল্লাহ তাআলা বলেন তোমরা মানুষকে কুরআন এবং হাদিস থেকে নসীয়ত কর। কারণ কোরআনের ভিতরে আল্লাহতালার হেদায়েতের নূর রেখেছেন। তাই আমি আল্লাহ ইচ্ছাতে, আল্লাহর জন্য, সরাসরি কুরআন এবং হাদিস থেকে কিছু কথা রাখলাম বাকিটা আল্লাহতালার ইচ্ছা তিনি সকলের অন্তরের মালিক, তিনি চাইলে অন্তর পরিবর্তন করে দিতে পারেন।
♣︎ কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি
কুরআনে সরাসরি গান-বাজনা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট বর্ণনা নেই, তবে কিছু আয়াত থেকে এ বিষয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যায়:
1. সুরা লুকমান (৩১:৬):
“আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আছে, যারা অজ্ঞতা বশত আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য ‘লাহওয়াল হাদীস’ (অর্থহীন ও মনোরঞ্জক বিষয়াবলি) ক্রয় করে এবং তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।”
(সূরা লুকমান: ৬)
◆ অনেক স্কলার (যেমন, ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ)রা. বলেছেন, এখানে "লাহওয়াল হাদিস" শব্দটি গান এবং বাজনার প্রতি ইঙ্গিত করে।
2. সুরা নিসা (৪:১৪০):
> "...যখন তোমরা আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করা এবং তামাশা করতে শুনবে, তখন তাদের সঙ্গে বসে থাকো না, যতক্ষণ না তারা অন্য প্রসঙ্গে চলে যায়।"
◆ যদি গান-বাজনা আল্লাহর স্মরণ থেকে বিচ্যুতি ঘটায় বা ধর্মীয় বিষয় নিয়ে তামাশা করে, তবে তা ইসলামি আদর্শের পরিপন্থী।
♣︎ হাদিসের দৃষ্টিভঙ্গি
রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর হাদিসে গান-বাজনার বিষয়ে বেশ কিছু সতর্কতা উল্লেখ আছে। নিচে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হলো:
1. সহীহ আল-বুখারী:
> "আমার উম্মতের কিছু লোক এমন হবে যারা অবৈধ যৌনতা, রেশমি কাপড়, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।"
(সহীহ বুখারী: ৫৫৯০)
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার ইসলামিক শরীয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ (হারাম)।
2. সুনান আবু দাউদ:
> "আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি (সাঃ) ঢোল-তবলা বাজানো এবং নেশাজনক বস্তু সেবন নিষিদ্ধ করেছেন (আবু দাউদ ৩৬৪৪)।"
3. সুনান ইবনে মাজাহ:
> "গান-বাজনা মানুষের অন্তরকে কাফেলার মত করে দেয়, যেমন পানি মাঠকে নষ্ট করে।"
♣︎ ইসলামী স্কলারদের মতামত
1. ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.):
তিনি বলেছেন, গান-বাজনা অন্তরে কপটতা সৃষ্টি করে এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে মানুষকে বিরত রাখে।
2. ইমাম গাজালি (রহ.):
তিনি বলেন, গান যদি আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদত থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়, তবে তা স্পষ্ট হারাম। তবে যদি তা ভালো কাজে উৎসাহিত করে, তবে তা অনুমোদনযোগ্য হতে পারে (পরিস্থিতি বিবেচনায়)।
3. ইমাম শাফেয়ি (রহ.):
তিনি বলেছেন, গান-বাজনা এবং লাহওয়াল হাদিস সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এটি মানুষকে ধর্ম থেকে বিচ্যুত করতে পারে।
4. ইবনে কাইয়্যিম (রহ.):
তিনি বলেন, গান-বাজনা মানুষের আত্মাকে দূষিত করে এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে মানুষকে বিরত রাখে।
♠︎ তাছাড়াও:
এটি অশ্লীলতা, অশ্রদ্ধা, বা গুনাহের দিকে পরিচালিত করে।
আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদত থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়।
এটি এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে যা মুসলিম চরিত্র ও মূল্যবোধের পরিপন্থী।
মুসলিমদের উচিত এমন কার্যক্রম এড়িয়ে চলা যা তাদের ঈমান এবং আখলাকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আল্লাহর প্রতি ভয় ও রাসূলের (সাঃ) সুন্নাহ মেনে চলাই উত্তম।
★ || ব্যতিক্রমী বর্ণনা থেকে পাওয়া যায়:
নবীজি (সাঃ) ঈদের দিনে একবার আয়েশা (রাঃ)-এর ঘরে একদল মেয়ে কবিতা বা গান গাচ্ছিল। নবীজি (সাঃ) তাঁদেরকে বাধা দেননি, বরং আবু বক্কর সিদ্দিক (রা.) এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলে তখন তাকে থামিয়ে দেন। (মূল হাদিসের সংক্ষিপ্ত ভাবমূর্তি পেশ করলাম)
(সহীহ বুখারি: ৯৫২; সহীহ মুসলিম: ৮৯২)
◆ এই হাদিসটি ইঙ্গিত করে যে, আনন্দ এবং বিশেষ উপলক্ষে গান বৈধ হতে পারে যদি তা শরীয়তের সীমারেখায় থাকে এবং এতে কোনো হারাম বিষয় না থাকে।
- লেখক/আলোচক: জি. কে. এম. জারিফ উর রহিম।
#jarifurrahim
Comments
Post a Comment