খ্রিষ্টানদের বড়দিন আর মুসলমানদের ধ্বংসের দিন
খ্রিস্টানদের বড়দিন (Christmas) হল যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন উদযাপনের দিন। এটি প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর পালন করা হয়। বড়দিন উদযাপনের ইতিহাস এবং এর তাৎপর্য সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
♠︎ মূল ইতিহাস~
1. যিশু খ্রিস্টের জন্ম
খ্রিস্টান বিশ্বাস অনুসারে, যিশু খ্রিস্ট হলেন ঈশ্বরের পুত্র, যিনি মানবজাতির পাপ থেকে মুক্তি দিতে পৃথিবীতে এসেছিলেন। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি বেথলেহেম শহরে কুমারী মেরি (Virgin Mary)-র গর্ভে অলৌকিকভাবে জন্মগ্রহণ করেন। যিশুর জন্মের ঘটনাটি বাইবেলের নতুন নিয়মে (New Testament) বিশেষভাবে লূক এবং মথি রচিত সুসমাচারে (Gospels of Luke and Matthew) বর্ণিত হয়েছে।
2. ২৫ ডিসেম্বর তারিখের পেছনের কারণ
বাইবেলে যিশুর সঠিক জন্মতারিখ উল্লেখ নেই।
রোমান সাম্রাজ্যে ২৫ ডিসেম্বর একটি প্যাগান উৎসবের (মিথ্রার জন্মোৎসব বা "Sol Invictus") সঙ্গে মিলিয়ে বড়দিন উদযাপন শুরু হয়। এটি খ্রিস্টধর্মকে জনপ্রিয় করার কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হয়।
চতুর্থ শতাব্দীতে রোমান সম্রাট কনস্টান্টাইন খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করার পর ২৫ ডিসেম্বরকে যিশুর জন্মদিন হিসেবে ঘোষণা করেন।
》》 এবার বর্তমানে মতিভ্রম হওয়া মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বার্তা:
♣︎ কুরআনের নির্দেশনা
1. অন্য ধর্মের রীতিনীতি অনুসরণ থেকে বারণ আল্লাহ তাআলা বলেন:
"তারা যদি তোমাদের কুফরিতে রাজি করতে পারে, তবে তারা তোমাদের বন্ধু হতে পারে।"
(সুরা আলে ইমরান, ৩:২৮)
এই আয়াতে স্পষ্টতই বলা হয়েছে, মুসলমানরা কাফিরদের মতবাদ ও কার্যকলাপে তাদের অনুসরণ করলে ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
2. ইসলামের অনন্যতা রক্ষা আল্লাহ বলেন:
"তোমরা তাদের মত হও না যারা নিজেদের ধর্ম বিকৃত করেছে এবং পথভ্রষ্ট হয়েছে।"
(সুরা আল-হাদিদ, ৫৭:১৬)
এই আয়াতে মুসলমানদের সতর্ক করা হয়েছে যেন তারা ইসলাম ছাড়া অন্য কোন মতাদর্শ বা রীতিতে জড়িত না হয়।
♣︎ হাদিসের প্রমাণ
1. অন্য ধর্মের অনুসরণ নিষিদ্ধ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
"যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের অনুকরণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।"
(আবু দাউদ, হাদিস: ৪০৩১)
এই হাদিসে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অন্য ধর্ম বা সংস্কৃতির কোন বিষয়কে গ্রহণ করা মুসলমানদের ঈমানকে দুর্বল করতে পারে। বড়দিন উদযাপন বা শুভেচ্ছা জানানো এই বিধানের অন্তর্ভুক্ত।
2. বিশেষ সতর্কবার্তা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
"তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদের মতো হবে না।"
(মুসনাদ আহমদ, হাদিস: ২৮৫৫)
খ্রিস্টানদের বড়দিন উদযাপন বা তাদের এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তাদের মতাদর্শ গ্রহণের শামিল।
♣︎ ফিকহি দৃষ্টিকোণ
1. উলামাদের মতামত
ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রহ.) বলেন:
"কাফিরদের উৎসব উদযাপন করা বা তাদের উৎসবে অংশগ্রহণ করা শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম।"
(ইকতিদা আস-সিরাত আল-মুস্তাকিম)
ইমাম ইবনু কায়্যিম (রহ.) বলেন:
"মুসলমানদের উচিত, তাদের নিজস্ব আচার-অনুষ্ঠানকে বজায় রাখা এবং কাফিরদের রীতিনীতিকে পরিহার করা।"
(আহকাম আহলুজ-জিম্মা)
2. বড়দিন উদযাপনের শরিয়তসম্মত অবস্থান বড়দিন উদযাপন বা খ্রিস্টানদের যেকোনো ধর্মীয় উৎসবকে সমর্থন করা মুসলমানদের ঈমানের জন্য হুমকিস্বরূপ। কারণ এটি খ্রিস্টানদের বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রতি সম্মতি প্রদর্শন করা হয়।
♣︎ শুভেচ্ছা জানানো সম্পর্কে
ইসলামের দৃষ্টিতে অন্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানানো তাদের বিশ্বাসকে সমর্থন করার সমতুল্য। এটি মুসলমানদের ঈমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং কখনো কখনো শিরকের সমতুল্য হয়ে যেতে পারে। ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রহ.) বলেন:
"অন্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানানো শিরকের অন্তর্ভুক্ত।"
(মাজমু' আল-ফাতাওয়া, ২৫/৩২৬)
♣︎ মুসলমানদের জন্য পরামর্শ
1. নিজস্ব পরিচয় বজায় রাখা
মুসলমানদের উচিত নিজেদের ঈমান এবং ইসলামী সংস্কৃতি বজায় রাখা। অন্য ধর্মের অনুষ্ঠান ও রীতিনীতির প্রতি আগ্রহ বা অংশগ্রহণ ঈমানের জন্য হুমকি।
2. দাঈর ভূমিকা পালন করা
যারা অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে জড়িত হতে চান বা শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, তাদের প্রতি কুরআন ও হাদিসের আলোকে উপদেশ দেওয়া। এই বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া যে এটি তাদের ঈমানের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে।
3. তাওবা করা
যারা ইতিমধ্যে এই ভুল করেছেন, তাদের আল্লাহর কাছে তাওবা করা উচিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার দৃঢ় সংকল্প করা উচিত।
বড়দিন উদযাপন বা খ্রিস্টানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ইসলামে নিষিদ্ধ এবং ঈমানের জন্য বিপজ্জনক। কুরআন ও হাদিসের আলোকে মুসলমানদের উচিত নিজেদের ধর্মীয় গৌরব রক্ষা করা এবং ইসলামের বিধান মেনে চলা। যারা এ বিষয়ে অসচেতন, তাদের ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার দিকে ফিরে আসতে পরামর্শ দিন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
॥ লেখক/আলোচক -
》জি. কে. এম. জারিফ উর রহিম।
#jarifurrahim #jarif #জারিফ #جَرِيفْ

Comments
Post a Comment