মুসলমানদের একটাই দল

সংক্ষিপ্ত লেখা; পড়ুন। আমি কোন আলেম(মাদ্রাসা নীতি অনুযায়ী) নয়। তাই আমি কোন নিজস্ব মতের ব্যাখ্যায় যাব না। এই পোস্টটি সাজাতে আমাকে অনেক টেকনোলজি এবং বই-পুস্তক সহ আলেমগণের সাথে অনেক লম্বা যোগাযোগ করা লেগেছে। যেহেতু মানুষকে কুরআন এবং হাদিসের সরাসরি আয়াত থেকে সত্যের দিকে আহ্বান দিতে বলা হয়েছে; আমি তাই চেষ্টা করলাম। কোরআন হাদিসের বানীতে রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়েতের নূর।

আমি জামাত ইসলামী নয়, আমি চরমোনা পন্থী নয়, আমি শিবির নই, আমি তবলিগওয়ালাও নই, আমি সুন্নি বুঝিনা, আমি শিয়া চিনি না, আমি আটরশি / কাদিয়ানী কাউকেই চিনিনা-জানিনা আর জানতে চায় না। 

আমি পরিষ্কার জানি, আমি ইসলাম ধর্ম অবলম্বনকারী একজন মুসলিম। আমি কলেমাকে স্বীকার করি, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করি, নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষ নবী এবং শ্রেষ্ঠ নবী হওয়ার সাক্ষ্য দেয়। এবং আমি তারই উম্মত; তারই দলের একজন হিসেবে তার অনুসরণ করি। আমি আল কোরআনুল কারীমকে আল্লাহর নিজের বাণী এবং নির্ভুল ও পরিপূর্ণ আসমানী কিতাব হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করি।

>> এই পর্যন্ত সবকিছু ঠিক রেখে - আমি যা খুশি তাই করি না কেন, যে কোন বিষয়ে যে মতামত কিংবা কারোর মতের বিরোধিতাই করি না কেন, কারোর অধিকার নেই আমাকে জোরপূর্বক অন্যের মতের উপর বাধ্য করার। আর আমি না মানলে আমাকে জনসম্মুখে সমালোচনা করার করার অধিকারও কাউকে শরীয়ত দেয় না। আল্লাহতালা সবাইকে নিজ নিজ জ্ঞান বুদ্ধি দান করেছেন সুতরাং কোরআন এবং হাদিস থেকে সরাসরি বাণী প্রচারের পর, যার আমলের হিসাব তার থেকেই নেওয়া হবে। আমার কারোর বিচার করার অধিকার নেই এবং আমাকে কেউ এই দায়িত্ব দেয়নি। কোরআন হাদিসের সরাসরি বাণী প্রচারের পর নিজস্ব মতামতকে মানুষের সামনে সত্যি প্রমাণ করার জন্য আজ আমরা এক মুসলমান আরেক মুসলমানকে ধ্বংস করছি। প্রকৃত সত্যি আমরা নিজেকেই ধ্বংস করলাম। 

আমি আগে মুসলমান তারপর আমি তবলিগ করি, তারপর আমি শিবির করি, আমি চরমোনাই যাই, আমি সব কিছুর সাথে যুক্ত হওয়ার অধিকার রাখি। যেই সবকিছু ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত রাখে, যেই সবকিছু ইসলামের কল্যাণের সাথে সম্পৃক্ত হবে তা সবই আমার জীবনের সাথেও সম্পৃক্ত থাকবে ইনশাল্লাহ।

এখন মুসলিম হিসেবে কোরআন হাদিস অনুযায়ী আমার কি করনীয়?

১. অন্যদের ঈমান নিয়ে রায় দেওয়ার বিষয়ে সতর্কতা

■ আল্লাহর বিচার ক্ষমতা

কুরআনে আল্লাহ বলেছেন:

> "যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতের আনন্দময় প্রতিদান; তাদের ঈমান নিয়ে কেবল আল্লাহ-ই সিদ্ধান্ত দেবেন।"
(সূরা আল-বাকারা: ২৭৭)

এ থেকে বোঝা যায়, মানুষের ঈমানের বিচার করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে।

■ অন্যের প্রতি অবিচার না করার নির্দেশনা

> "হে মুমিনগণ, বেশি সন্দেহ থেকে বাঁচো; কারণ কিছু সন্দেহ পাপ।"
(সূরা আল-হুজরাত: ১২)

■ মুসলমান ঘোষণার জন্য কলেমা যথেষ্ট

📚 নবী করিম (সা.) বলেছেন:
 "যে ব্যক্তি বলে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
(সহীহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ১২৮)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, যদি কেউ কলেমা পড়ে এবং একত্ববাদে বিশ্বাস করে, তাকে মুসলমান হিসেবে গণ্য করা হবে। হাদীসটি অতি সুস্পষ্ট এবং অকাট্য দলিল শুধু কালেমায় যথেষ্ট কারোর ইসলামে প্রবেশ করার জন্য।

■ অন্যকে কাফের বলা হারাম

📚 নবী (সা.) বলেছেন:
 "যে কেউ তার মুসলমান ভাইকে কাফের বলে ডাকে, এবং যদি সে আসলে কাফের না হয়, তবে এই অভিযোগ তার নিজের ওপর ফিরে আসে।"
(সহীহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৫৬৯৮)

২. মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ইসলামিক ঐক্যের গুরুত্ব

কুরআনের দলিল:

> "তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধরো এবং বিভক্ত হয়ো না।"
(সূরা আলে-ইমরান: ১০৩)

এই আয়াত মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যের গুরুত্ব আরোপ করে এবং বিভেদ থেকে দূরে থাকতে বলে।

📚 নবী (সা.) বলেছেন:
"মুসলিম হলো সেই ব্যক্তি যার হাত ও জিহ্বা দ্বারা অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।"
(সহীহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৬৪৮৫)

৩. মতভেদ থাকা সত্ত্বেও একজন মুসলমানের গ্রহণযোগ্যতা

♧ তাদের কলেমা:
যে কোনো দল বা ব্যক্তি যারা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" কলেমা পড়ে এবং এর প্রতি বিশ্বাস রাখে, তাদের মুসলমান হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

♧ তাদের কুরআনে বিশ্বাস:
সকল মুসলিম গোষ্ঠী কুরআনকে আল্লাহর নির্ভুল বাণী হিসেবে বিশ্বাস করে।

♧ তাদের নবী (সা.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা:
সকল মুসলমানই নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে সর্বোচ্চ মর্যাদায় রাখে এবং তার অনুসরণ করে।

৪. অপবাদ দেওয়ার ফলাফল

■ কুরআনের দলিল:

> "তোমরা পরস্পরের নিন্দা করো না এবং কাউকে অপমান করো না। এটি পাপের কাজ।"
(সূরা আল-হুজরাত: ১১)

অপবাদ দেওয়ার শাস্তি:
নবী (সা.) বলেছেন:

📚 "যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে বা মিথ্যা প্রচার করে, সে তার জন্য জবাবদিহি করবে।"
(তিরমিজি, হাদিস নম্বর: ১৯৭১)

৫. সত্য প্রচার ও জোরাজুরি না করার শিক্ষা

■ কুরআনের দলিল:

> "তোমার কাজ কেবল বার্তা পৌঁছে দেওয়া। হিসাব গ্রহণ করা আমার কাজ।"
(সূরা আর-রাদ: ৪০)

|| সত্য প্রচারের পর মানুষের উপর চাপ প্রয়োগ নিষেধ ||

এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে সত্য প্রচার করা নবীর এবং আমাদের দায়িত্ব, কিন্তু গ্রহণ করা বা না করার সিদ্ধান্ত মানুষের উপর নির্ভরশীল।

■ বিচার আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া:

> "তুমি উপদেশ দাও; কারণ উপদেশ সত্যিই মুমিনদের উপকার করে।"
(সূরা আয-যারিয়াত: ৫৫)


📚 নবী (সা.) বলেছেন:
> "ধর্মে কোনো জোরজবরদস্তি নেই।"
(সহীহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ২৩২)

■ সবার জন্য দায়িত্বে ভারসাম্য:

📚 "তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না। সুসংবাদ দাও, ভীতি সৃষ্টি করো না।"
(সহীহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৬৯৮৯)

■ মুসলিম হিসেবে আমার করনীয় এবং কোরআন-হাদিস থেকে শিক্ষা:

● ইসলামে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ঐক্য বজায় রাখা এবং পরস্পরের প্রতি সম্মান দেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

● যদি কেউ ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসে অটল থাকে, তবে তাকে মুসলমান হিসেবেই গণ্য করা উচিত।

● সত্য প্রচারের পর কারও উপর চাপ সৃষ্টি করা বা জোরাজুরি করা কোরআন ও হাদিসের পরিপন্থী।

● বিচার একমাত্র আল্লাহর হাতে এবং প্রতিটি ব্যক্তি তার নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা ও আমলের জন্য জবাবদিহি করবে।

♤ আল্লাহ আমাদের সকলকে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করুন এবং আমাদের হৃদয়কে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহমর্মিতায় পরিপূর্ণ করুন। আমিন।♤


[ নিজে পড়েছেন, সহমত হলে এবার প্রচারও করুন ]

Comments

More Interesting Topics

খ্রিষ্টানদের বড়দিন আর মুসলমানদের ধ্বংসের দিন

শরীয়তের পোশাকের সুন্নত ও নীতিমালা

প্রশংসা করার কুফল ও সঠিক পদ্ধতি