সৃষ্টিকর্তার ধর্ম কোনটি? আর এত্ত অন্য ধর্মগুলো কাদের?

সৃষ্টিকর্তা যদি একজনই হবেন তাহলে পৃথিবীতে এত্ত ধর্ম কেনো? আসলেই কি আলাদা আলাদা ধর্মীয় গ্রন্থগুলো আলাদা আলাদা ধর্ম প্রচার করেছে? নাকি একজন সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকেই এক ধর্মের উপরই বিভিন্ন সময়ে আলাদা আলাদা ভাবে এই গ্রন্থগুলো পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে? তাহলে ভিন্ন নামের এত ধর্ম কিভাবে হল? এক সৃষ্টিকর্তা থেকে নাযিলকৃত ধর্মের নাম এতবার কেন পরিবর্তন ঘটল? নাকি ধর্মীয় গ্রন্থ গুলোর উপর মানুষ নিজের মন মত তাদের "ধর্মের নাম" নির্ধারণ করে তা অনুসরণ করেছিল? সৃষ্টিকর্তা নিজে কি তার ধর্মের নাম নির্ধারণ করবেন না? তাহলে এত নামের ধর্মের মধ্যে কোন নামগুলো মানুষের রচিত; আর কোন নামের ধর্মটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য নির্ধারিত?

চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক ধর্মীয় গ্রন্থগুলো পৃথিবীতে নাযিল হওয়ার পর সৃষ্টিকর্তা নিজে কোথাও ধর্মের নাম উল্লেখ করেছিলেন, নাকি মানুষ গ্রন্থগুলো পাওয়ার পর নিজের মত তাদের ধর্মের নাম বানিয়েছিলেন? যদি সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে তার নাযিলকৃত গ্রন্থগুলোতে তার দেওয়া কোন উল্লেখযোগ্য ধর্মের নাম না পাওয়া যায়, তাহলে বুঝে নিতে হবে সৃষ্টিকর্তা ধর্ম আলাদা করেননি বরং ধর্মীয় গ্রন্থগুলো দেওয়ার পর মানুষ নিজেই নতুন ধর্মের নাম তৈরি করে ধর্ম আলাদা করেছেন। সব ধর্মীয় গ্রন্থ গুলোই একই ধর্মের জন্য এক সৃষ্টিকর্তা পাঠিয়েছেন।
সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে দেওয়া ধর্মীয় গ্রন্থ যা কিনা পরিপূর্ণ এবং নির্ভুল নিশ্চয়ই সেই ধর্মীয় নামের নির্ধারণ সৃষ্টিকর্তা নিজেই করবেন। তাহলে ইতিহাস এবং তথ্য দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে জেনে নেওয়া যাক, সৃষ্টিকর্তা তার গ্রন্থ গুলোর মধ্যে তার ধর্মের জন্য কোন নামটি নির্ধারণ করেছেন এবং মানুষকে তা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন।

---

১. ইসলাম

ধর্মগ্রন্থ: কুরআন যা সৃষ্টিকর্তার সরাসরি বাণী।

ধর্মের নাম: "ইসলাম"।
কুরআনে সৃষ্টিকর্তা সরাসরি ধর্মের নাম "ইসলাম" উল্লেখ করেছেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্ম ইসলাম।"
(সূরা আলে-ইমরান, আয়াত ১৯)

"আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছি, এবং আমার নিয়ামত তোমাদের উপর পূর্ণ করেছি এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য ধর্ম হিসেবে মনোনীত করেছি।"
(সূরা মায়িদা, আয়াত ৩)

বিশেষত্ব: ইসলাম একমাত্র ধর্ম যেখানে ধর্মের নাম সৃষ্টিকর্তার বাণীতে সরাসরি উল্লেখিত।

---

২. খ্রিস্টধর্ম (Christianity)

ধর্মগ্রন্থ: বাইবেল (বিভিন্ন অংশ সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে বিবেচিত)।

ধর্মের নাম: "Christianity"।

বাইবেলের মূল গ্রন্থে (ওল্ড টেস্টামেন্ট ও নিউ টেস্টামেন্ট) সরাসরি "Christianity" শব্দটি নেই।
"খ্রিস্টান" (Christian) শব্দটি প্রথম ব্যবহার করা হয় আন্তিওক শহরে যিশুর অনুসারীদের বর্ণনা করতে।

উদাহরণ: "...এবং প্রথমবার আন্তিওকে যিশুর অনুসারীদের খ্রিস্টান বলা হয়।"
(প্রেরিতদের কাজ, ১১:২৬)

বিশেষত্ব: বাইবেলে ধর্মের নামের নির্দেশনা সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে সরাসরি দেওয়া হয়নি। এটি ঐতিহাসিকভাবে বিকশিত হয়েছে।

---

৩. ইহুদিধর্ম (Judaism)

ধর্মগ্রন্থ: তৌরাত (Torah), তানাখ।
ধর্মের নাম: "Judaism"।

তৌরাত বা তানাখে সরাসরি "Judaism" শব্দটি নেই।
ইহুদি ধর্মের নাম এসেছে "যিহুদা" (Judah) গোত্রের নাম থেকে, যা ইসরায়েলি গোত্রগুলোর একটি।
তানাখে ইহুদিদের জন্য "ইস্রায়েলের সন্তান" (Children of Israel) বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষত্ব: ইহুদি ধর্মের নাম সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে সরাসরি উল্লেখিত নয়। এটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের ফল।

---

৪. হিন্দু ধর্ম (Sanatana Dharma বা Hinduism)

ধর্মগ্রন্থ: বেদ, উপনিষদ, পুরাণ।
ধর্মের নাম: "সনাতন ধর্ম" বা "হিন্দু ধর্ম"।

বেদ বা উপনিষদে "হিন্দু" বা "সনাতন ধর্ম" শব্দের উল্লেখ নেই।
"সনাতন ধর্ম" শব্দটি পরে ব্যাখ্যাকারীদের দ্বারা প্রবর্তিত, যা শাশ্বত সত্যের প্রতীক।
"হিন্দু" নামটি ঐতিহাসিক এবং ভূগোলগত কারণে এসেছে (সিন্ধু নদীর অঞ্চল থেকে)।

বিশেষত্ব: ধর্মের নাম সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে উল্লেখিত নয়। এটি ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়ার ফল।



---

৫. বৌদ্ধধর্ম (Buddhism)

ধর্মগ্রন্থ: ত্রিপিটক।
ধর্মের নাম: "Buddhism"।
ত্রিপিটকে নামের উল্লেখ:
ত্রিপিটকে "Buddhism" নাম নেই।

এই নাম এসেছে গৌতম বুদ্ধের অনুসারীদের দ্বারা। বুদ্ধ নিজেকে শিক্ষাদাতা এবং "ধর্ম" (Dhamma) প্রচারক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিশেষত্ব: বৌদ্ধধর্মের নাম ঐতিহাসিকভাবে অনুসারীদের মাধ্যমে এসেছে, সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে নয়।

---

৬. শিখধর্ম (Sikhism)

ধর্মগ্রন্থ: গুরু গ্রন্থ সাহিব।
ধর্মের নাম: "Sikhism"।
গুরু গ্রন্থ সাহিবে নামের উল্লেখ:

গুরু গ্রন্থ সাহিবে "Sikhism" শব্দটি নেই। তবে "শিখ" শব্দের অর্থ "শিক্ষার্থী"।
ধর্মের নাম এসেছে গুরু নানকের শিক্ষার অনুসরণ থেকে।

বিশেষত্ব: শিখ ধর্মের নাম সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে নির্ধারিত নয়। এটি গুরুদের শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে উঠেছে।

---

সুতরাং পরিশেষে যাচাই-বাছাই করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় যে,

সরাসরি সৃষ্টিকর্তার বাণীতে শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের নাম "ইসলাম" হিসেবে কুরআনে উল্লেখ রয়েছে।

অন্যান্য প্রধান ধর্মগুলোর নাম সৃষ্টিকর্তার বাণীতে উল্লেখিত নয়। সেগুলো ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় চর্চার ভিত্তিতে মানুষের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে।

তাই ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রে ধর্মের নাম সরাসরি সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে নির্দেশিত এবং এটি একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য।

Comments

More Interesting Topics

খ্রিষ্টানদের বড়দিন আর মুসলমানদের ধ্বংসের দিন

শরীয়তের পোশাকের সুন্নত ও নীতিমালা

প্রশংসা করার কুফল ও সঠিক পদ্ধতি