ইবলিশ আর শয়তানের মধ্যে সম্পর্ক/পার্থক্য।

》মানুষ - শয়তান এবং ইবলিশের মধ্যকার সম্পর্ক《

শয়তান এবং ইবলিশের মধ্যে সম্পর্ক। দুইটি কি আলাদা আলাদা সত্তা নাকি এদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই? ইবলিশ কেন মানুষের শত্রু হলো? ইবলিশের আগেও কি শয়তানের অস্তিত্ব ছিল? ইবলিশ কার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল?

● মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য:

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন, "আমি জিন ও মানবজাতিকে শুধুমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি।" (সুরা যারিয়াত, আয়াত ৫৬)  

এ থেকে বোঝা যায়, মানুষের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবনযাপন করা।

● রুহের সৃষ্টি:

আল্লাহ তাআলা মানুষের দেহকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে তাঁর রুহ ফুঁকে দিয়েছেন। কুরআনে বলা হয়েছে, "অতঃপর আমি তাকে সুসম করি, তাতে রুহ সঞ্চার করি এবং তোমাদেরকে দান করি কর্ণ, চক্ষু ও অন্তঃকরণ।" (সুরা আস-সাজদাহ, আয়াত ৯)  
সুতরাং রুহ আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ উপহার, যা মানুষের জীবনীশক্তি ও চেতনার মূল।

● মানুষের ও জ্বিনের স্বাধীন ইচ্ছা ও দায়িত্ব:

আল্লাহ তাআলা জ্বীন ও মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছা ও বিবেক দিয়েছেন, যাতে তারা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। এই স্বাধীন ইচ্ছার কারণে মানুষ ও জ্বীন তার কাজের জন্য দায়বদ্ধ। কুরআনে বলা হয়েছে, "যে সৎকর্ম করে, সে নিজের জন্যই করে; আর যে মন্দকর্ম করে, তার দায়ও সে নিজেই বহন করবে।" (সুরা ফুসসিলাত, আয়াত ৪৬)

সুতরাং বোঝা গেল মানুষকে এবং জিন জাতিকে আল্লাহতালা নিজেই তার বিবেক ও বুদ্ধি ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা দিয়েছে এবং নিজ ইচ্ছায় অনুযায়ী কর্ম সাধন করার ব্যাপারেও স্বাধীনতার রেখেছে। মানুষ ও জিন চাইলে তাদের ইচ্ছামতো ভালো এবং খারাপ উভয় কাজে এই শক্তি ব্যয় করতে পারে। 

তারা কিভাবে কোন পথে এই শক্তি ব্যয় করবেন এ বিষয়ে আল্লাহতালা পূর্ব থেকেই অবগত রয়েছেন। তিনি পূর্ব থেকে অবগত রয়েছেন অর্থ এই না যে, তিনি খারাপ কিছু হওয়ার আগে বাধা দেবেন। আল্লাহতালা নিজে পরিপূর্ণ; তাই তার কোন কাজ করার পর আবার তা পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। যে ক্ষমতা তিনি নিজে থেকে একবার দিয়েছেন, সেই ক্ষমতা ব্যবহারের সময় তিনি যদি বাধা প্রদান করেন তাহলে শুরুতেই এই ক্ষমতা দেওয়ার কোন অর্থ থাকে না। যা আল্লাহ তাআলার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে অমিল হবে। 

>> আর এটি একটি কারণ যে তিনি জানতেন আদম আঃ কে আজাজিল বা শয়তান ধোকা দেবে, তারপরেও তিনি বাধা দেননি কিম্বা তাদেরকে আলাদা করেন নি। বরং তিনি আদম আ: কে সতর্ক করেছেন এবং শয়তান সম্পর্কে জানিয়েছেন।

● পরীক্ষা ও বিচার:

পৃথিবীতে মানুষের জীবন একটি পরীক্ষা। আল্লাহ তাআলা দেখতে চান, কে তাঁর নির্দেশনা মেনে চলে এবং কে অমান্য করে। এই পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী পরকালে পুরস্কার বা শাস্তি নির্ধারিত হবে। কুরআনে বলা হয়েছে, "যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন—কে কর্মে উত্তম।" (সুরা মুলক, আয়াত ২)

● সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও আল্লাহর জ্ঞান:

আল্লাহ তাআলা সর্বজ্ঞ এবং সর্বশক্তিমান। তিনি যা করেন, তা সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত। মানুষের সীমিত জ্ঞান দিয়ে সবকিছু বোঝা সম্ভব নয়। কুরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জ্ঞান অতি সামান্য।" (সুরা ইসরা, আয়াত ৮৫) 

● এবার আসা যাক আল্লাহ আদেশে আদম আ: কে সিজদা করার সেই ঘটনাটির ব্যাপারে।

তার আগে আমাদেরকে শয়তান এবং ইবলিশের মধ্যবর্তী কার সম্পর্ক সম্পর্কে একটু পরিষ্কার হতে হবে। তা না হলে আমরা সেই ঘটনার সম্পর্কে যথাযথভাবে বোধগম্য হতে পারব না।

শয়তান শব্দটি আরবি "شَيْطَان" (শায়তান) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হচ্ছে "বিদ্রোহী" বা "অবাধ্য।" এটি সাধারণত এমন সত্তাকে বোঝায়, যে আল্লাহর নির্দেশনার বিরুদ্ধে যায় এবং মানুষকে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করে।

শয়তান বলতে শুধু ইবলিসকেই বোঝায় না, বরং যেকোনো জিন বা মানুষ, যারা খারাপ কাজ করতে প্ররোচিত করে, তাদেরও শয়তান বলা হয়।

কুরআনে বলা হয়েছে:
"এভাবে আমি প্রতিটি নবীর জন্য শয়তানদের শত্রু করেছি, যারা ছিল জিন এবং মানুষের মধ্য থেকে।"
(সুরা আন'আম, আয়াত ১১২)

● এবার কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী ইবলিশ যেদিন আদম আঃকে সেজদা করতে অস্বীকার করল সেই দিনের সম্পর্কের আয়াতগুলো পর পর লক্ষ্য করা যাক: (Surah-Al Araf):

11,
আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, এরপর আকার-অবয়ব, তৈরী করেছি। অতঃপর আমি ফেরেশতাদেরকে বলছি-আদমকে সেজদা কর তখন সবাই সেজদা করেছে, কিন্তু ইবলীস সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত ছিল না।
12,
আল্লাহ বললেনঃ আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোকে কিসে সেজদা করতে বারণ করল? সে বললঃ আমি তার চাইতে শ্রেষ্ট। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা।
13,
বললেন তুই এখান থেকে যা। এখানে অহংকার করার কোন অধিকার তোর নাই। অতএব তুই বের হয়ে যা। তুই হীনতমদের অন্তর্ভুক্ত।
14,
আল্লাহ বললেনঃ তোকে সময় দেয়া হল।
15,
সে বললঃ আপনি আমাকে যেমন উদভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্য তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো।
16,
এরপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।
17,
আল্লাহ বললেনঃ বের হয়ে যা এখান থেকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে। তাদের যে কেউ তোর পথেচলবে, নিশ্চয় আমি তোদের সবার দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করে দিব।
18,
হে আদম তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর। অতঃপর সেখান থেকে যা ইচ্ছা খাও তবে এ বৃক্ষের কাছে যেয়োনা তাহলে তোমরা গোনাহগার হয়ে যাবে।
19,
অতঃপর শয়তান উভয়কে প্ররোচিত করল, যাতে তাদের অঙ্গ, যা তাদের কাছে গোপন ছিল, তাদের সামনে প্রকাশ করে দেয়। সে বললঃ তোমাদের পালনকর্তা তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করেননি; তবে তা এ কারণে যে, তোমরা না আবার ফেরেশতা হয়ে যাও-কিংবা হয়ে যাও চিরকাল বসবাসকারী।
20,
সে তাদের কাছে কসম খেয়ে বললঃ আমি অবশ্যই তোমাদের হিতাকাঙ্খী।
21,
অতঃপর প্রতারণাপূর্বক তাদেরকে সম্মত করে ফেলল। অনন্তর যখন তারা বৃক্ষ আস্বাদন করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের সামনে খুলে গেল এবং তারা নিজের উপর বেহেশতের পাতা জড়াতে লাগল। তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ডেকে বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করিনি এবং বলিনি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
22,
তারা উভয়ে বললঃ হে আমাদের পালনকর্তা আমরা নিজেদের প্রতি জুলম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব।
23,
আল্লাহ বললেনঃ তোমরা নেমে যাও। তোমরা এক অপরের শত্রু। তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে বাসস্থান আছে এবং একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত ফল ভোগ আছে।
24,
বললেনঃ তোমরা সেখানেই জীবিত থাকবে, সেখানেই মৃত্যুবরন করবে এবং সেখান থেকেই পুনরুঙ্খিত হবে।

>>>
এখন এখানে লক্ষ্যনীয় প্রথম বারেই যখন আজাযীল আদম (আ:)-কে সিজদা করতে অস্বীকার করল, তখনই সে আল্লাহর আদেশের অমান্য করল অর্থাৎ সে বিদ্রোহ করল এবং আল্লাহর বিরোধিতা করলো। এই কাজ করার দ্বারা সে তখনই শয়তানের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হলো।

আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণ হিসেবে তার অহংকারের দিক প্রকাশ পেল; যা করার অধিকার তার ছিল না। সুতরাং আল্লাহতায়ালা তাকে এখান থেকে চলে যেতে বললেন। এটার কারণ ছিল জান্নাতে কোন ব্যক্তি সামান্য পরিমাণ অহংকার নিয়েও প্রবেশ করতে পারবে না তাই ওই মুহূর্তে তাকে জান্নাত থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলা হলো। 

জান্নাত থেকে বের করে দেওয়ার এই অপমানের কারণে তখন আজাজিল আল্লাহর কাছ থেকে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অবকাশ চাইল এবং যে কারণে বা যাদের কারণে আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাত থেকে বের করে দিলেন তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করার শপথ করল। আল্লাহতালা তাকে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অবকাশ করলেন। এই সময় আল্লাহ তা'আলা তাঁকে ইবলিশ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

অর্থাৎ এই পর্যন্ত ইবলিশ নামকরণ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এটাও বোঝা গেল সে চির তরে শয়তান হিসেবে গণ্য হলো অর্থাৎ কেয়ামতের দিন তার কঠিন শাস্তি ওই মুহূর্তেই নির্ধারিত হয়ে গেল যদিও বা তখনও সে কোন মানুষকে ধোকা দিতে শুরু করেনি।

এই অবস্থায় আল্লাহ তাআলা আদম আলাই সালাম এবং হাওয়া আ: কেও সতর্ক করে দিলেন এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ সম্পর্কে জানিয়ে দিলেন। তারপরও 16 নাম্বার আয়াতে আমরা দেখতে পাই আল্লাহ তায়ালা বলেন শয়তান তাদেরকে প্ররোচিত করে, নিষিদ্ধ গাছের ফল খেতে প্রতারণা করে। এই শয়তান ইবলিশ ছিল নাকি শয়তান বলতে এখানে সেই অন্য কোন অমান্যকারী ছিল তা কিন্তু পরিষ্কার নিশ্চিত জানা গেল না। ইবলিশ ব্যতীত ওই মুহূর্তে আরো অন্য কোন জীন যে সেখানে থাকতো না এমন কোন দলিল কিন্তু পাওয়া যায় না। তাই জরের সাথে বলা যাবে না ইবলিশ নিজে তাদেরকে মিথ্যা প্রচারণা করেছিল কারণ ইবলিশ কে জান্নাত থেকে বিতারিত করে দেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই তার আর প্রবেশের অধিকার থাকার কথা না। আর যদি অন্য কোন জিন বা শয়তান সেখানে না থেকে ছিল তাহলে বুঝতে হবে ওই সময়ও ইবলিশের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করার সুযোগ ছিল যেটা যুক্তিসাপেক্ষে বেমানান।

যাইহোক পরিশেষে আদম আলাই সালাম আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণে শয়তানদের সাথে আল্লাহতালা তাদের পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিলেন। এবং বলে দিলেন শয়তান তোমাদের চিরশত্রু এই শয়তান অর্থাৎ যারা আল্লাহর বিরোধিতা করবে। এই শেষের আয়াতগুলোতেও আল্লাহ তালা শয়তান বলে উল্লেখ করেছেন। আর এই শয়তানদের প্রধান হিসেবে চিহ্নিত হল আজাজিল যাকে আল্লাহতালা ইবলিশ বলে সম্মোধন করেন।

● ইবলিশ এবং শয়তান এই দুই শব্দের মধ্যে সম্পর্ক ও পার্থক্য দেখা যাক।

ইবলিসের নামকরণ:

ইসলামী বর্ণনায়, ইবলিস তার সৃষ্টির সময় ফেরেশতাদের মতো ইবাদতে নিমগ্ন ছিল। তবে, আল্লাহ যখন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করে তাকে সিজদা করার নির্দেশ দেন, তখন ইবলিস অহংকারবশত অমান্য করে। এই বিদ্রোহের কারণে ইবলিস:

আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়।
চিরকালীন শয়তানে রূপান্তরিত হয়।
তার নাম "ইবলিস" হয়, যা তার অবস্থান এবং কর্মের পরিচয় বহন করে। এটি আল্লাহতালার অভিশপ্ত-প্রাপ্ত একটি নাম।

>>> কিন্তু ইবলিশ অভিশপ্ত-প্রাপ্ত এই নাম আর শয়তান উভয় কিন্তু একই সত্তা বা বস্তু ছিল? - না। শয়তান আগেও উপস্থিত ছিল। যেমনটা আজাজিল জিনের বংশধরেরা নিজের বিবেকের উপর সিদ্ধান্ত নিতে পারত। অর্থাৎ ইবলিশের হওয়ার আগে থেকেই আল্লাহর বিরোধিতা করার ঘটনা জ্বীনদের ভিতরে চালু ছিল। তখনও সেই বিরোধিতা একপ্রকার শয়তান অর্থের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারমানে শয়তান হল; যে কেউ আল্লাহর বিরোধিতা করলো কিংবা অন্যকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করল সেই হতে পারে কিন্তু সবাই ইবলিশ হবেনা। কারণ শুধুমাত্র শয়তানদের মধ্যে যে সর্বোচ্চ সীমালংঘন করেছে তাকেই আল্লাহতালা ইবলিশ হিসেবে অভিশপ্ত করেছেন। অর্থাৎ ইবলিশ একমাত্র শয়তান নয়, সে ছাড়াও আরো অসংখ্য শয়তান এবং তাদের প্ররোচনার অস্তিত্ব রয়েছে।

পুরো বিষয়ের আলোচনাগুলো প্রথম থেকে সম্পূর্ণ কুরআনের আয়াত এবং আল্লাহর বাণীর দলিল দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর কারণ হলো যা কিছু আল্লাহতালা আমাদের জন্য দিয়েছেন তাই সরাসরি আমরা গ্রহণ করলে সহজ এবং সত্য উত্তর খুঁজে পাবো। এর বাইরে কোন কিছুই আমাদের মস্তিষ্কের ধারণ করার মতো বোধশক্তি এবং ক্ষমতা কোনটাই নেই।

যদিও আল্লাহতালা সেই বিষয়গুলো আমাদেরকে জানাই দিতেন তবুও আমাদের কল্পনা কিংবা মেধা তা অনুধাবন করার জন্য যথেষ্ট কখনোই হতো না। উদাহরণস্বরূপ যদি বলা হয়; আল্লাহতালা নিরাকার আবার একই সাথে তিনি অস্তিত্ব ধারণ করেন, সর্বস্থানে একই মুহূর্তে অবস্থানও করতে পারেন। তবে এই কথাগুলো শুধুমাত্র আমরা শব্দ বা বাক্য আকারেই বুঝতে পারবো ঠিকই কিন্তু এর প্রকৃত অর্থ কখনোই বাস্তবে উপলব্ধি করতে পারবোনা। তাই আল্লাহ তা'আলা যা কোরআনে বলেছেন এর বাইরে কোন কিছুই আমাদের জ্ঞানসীমার ধারণ ক্ষমতায় আনা সম্ভব নয়। সুতরাং তা নিয়ে চিন্তা করাটাও অমূলক। তবে কোরআনের আয়াতে যা কিছু আল্লাহতালা আমাদের জন্য বলেছেন, তা সরাসরি জানার মাধ্যমে আমরা পরিষ্কার উত্তর খুঁজে পাবো। যদিও বা সেই উত্তরের সাথে বাস্তব সম্পর্কের মিল বুঝতে পারি বা না পারি।

Comments

More Interesting Topics

খ্রিষ্টানদের বড়দিন আর মুসলমানদের ধ্বংসের দিন

শরীয়তের পোশাকের সুন্নত ও নীতিমালা

প্রশংসা করার কুফল ও সঠিক পদ্ধতি