গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান


॥ যেকোনো কারণবশত হঠাৎ আজ আম্মু আর আমার একটি প্রশ্ন মাথায় আসলো। উত্তরটি জানা না থাকার কারণে সাথে সাথে ই অনুসন্ধানের কাজ শুরু করে দিলাম।

■ প্রশ্ন:
বিয়ের আগে পুরুষের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান করা বা এই অনুষ্ঠানে অস্থির হিসেবে অংশগ্রহণ করা ইসলামে বৈধ কিনা? 

■ সম্ভাব্য সম্পৃক্ত জবাব:
গায়ে হলুদ সম্বন্ধে সংসদ বাংলা অভিধান বলছে, গায়ে-হলুদ, বিবাহের অব্যবহিত পূর্বে পাত্রপাত্রীকে হলুদ মাখাইয়া স্নান করানর হিন্দু সংস্কার বিশেষ। পৃ. ১৬৯। 

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঈদ রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, ব্যক্তি [কিয়ামতের দিন] তার সাতে থাকবে যাকে সে মোহাব্বত করে। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৩৭১৮, বুখারী, হাদীস নং-৬১৬৮, ৫৮১৬}

হযরত ইবনে ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি যার সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪০৩১}

সুতরাং প্রশ্ন উল্লেখিত গায়ে হলুদ করা জায়েজ নেই। আর ইসলামে যা জায়েজ নেই এমন কাজ নিজে না করলেও সে কাজে অংশগ্রহণ করা কাজকে সমর্থন করার সমতুল্য।

গায়ে হলুদ করার বৈধতা সম্পর্কে দেখলাম কিছু মানুষ নিম্নোক্ত হাদীসটির উল্লেখ দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তবে আলহামদুলিল্লাহ মুসলিম বাংলা ফতোয়া বিভাগ থেকে এই ভুল ধারণা সংশোধনের পাল্টা জবাব পাওয়া গেছে।

আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রা. এর ঘটনাটি নিম্নরূপ :
একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রা. এর সাক্ষাৎ হলো। তখন তাঁর দেহে হলুদ সুগন্ধির চিহ্ন ছিলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কি ব্যাপার আব্দুর রহমান ! তখন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রা. বললেন, আল্লাহর রাসূল ! আমি এক আনসারী নারীকে বিবাহ করেছি। 
(সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৯৩৭)

কিন্তু সে হাদিসের আরো একটি বর্ণনা পাওয়া যায়:
আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রা. নিজে ব্যবহার করেন নি। বরং সেটা তাঁর স্ত্রীর ব্যবহার করা রং থেকে তাঁর দেহে বা পোষাকে লেগেছিলো। কারণ হাদিসে পুরুষের জন্য জাফরান রং ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সহীহ মুসলিম, হাদিস ২১১০। 


★ হিন্দু ধর্মাবলম্বীগণ দীর্ঘস্থায়ী বিবাহিত জীবন, বংশবিস্তার, নবদম্পতির সুখ-শান্তি কামনা এবং অপশক্তির প্রভাব দূর করতে ধর্মীয় আবশ্যকীয় রীতি হিসেবে এ গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। যা স্পষ্ট এক শিরিকের অন্তর্ভুক্ত তাদের দৃষ্টিভঙ্গির উদ্দেশ্য অনুযায়ী ★

》 হিন্দুদের গায়ে হলুদ পালনের রীতির উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমি নিজে বেশ কয়েক জন হিন্দুর কাছ থেকে নিশ্চিত হয়েছি।

সুতরাং গায়ে হলুদ কোনো ভাবেই জায়েজ নয়।
- মুসলিম বাংলা ফাতওয়া বিভাগ।


♣︎ আরো কিছু খুঁজে পাওয়া ইসলামী ফতোয়া ও মতামত:

কিছু ইসলামিক পণ্ডিতের মতে, গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানটি হিন্দু সংস্কৃতি থেকে আগত এবং এটি ইসলামী সংস্কৃতির অংশ নয়। তারা এই প্রথা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন, কারণ এটি বিজাতীয়দের অনুকরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। 


কিছু স্কলারদের মতে, যদি গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানটি ইসলামী আদর্শের পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপ, যেমন গান-বাজনা, অশ্লীলতা বা গায়রে মাহরামদের সঙ্গে মেলামেশা, থেকে মুক্ত থাকে, তবে এটি পালন করা যেতে পারে। তবে, এই ক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে যে, অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণরূপে ইসলামী সীমারেখার মধ্যে রয়েছে।


কিছু হাদীসে উল্লেখ রয়েছে যে, সাহাবীগণ বিবাহের সময় সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য হলুদ ব্যবহার করতেন, যা রাসূলুল্লাহ (সা.) অনুমোদন করেছেন। তবে, এটি কোনো আনুষ্ঠানিকতার অংশ ছিল না, বরং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে করা হতো। 


সূরা আল ইমরানের ১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহতালা বলছেন:
"নিঃসন্দেহে আল্লাহর কাছে মনোনীত/ গ্রহণযোগ্য একমাত্র ধর্ম ইসলাম"। ইসলাম থেকে আমাদের জীবন-পরিবার-সামাজ-দুনিয়া-আখেরাত জানতে হবে। ইসলামের পদ্ধতি অনুযায়ী মানতে হবে।
ইসলামের শিক্ষা এবং আদর্শকে মর্যাদা দিলে সত্য স্বীকার করতে ব্যক্তিগত আক্রোশ আমাদের বাধা হবে না ইনশাল্লাহ। যাদের পূর্বে জানা না থাকার কারণে ভুল হয়েছে তারা সত্য জানার পর তওবা করার সুযোগ পাই; আর যারা জানেনা তাদের তওবা করার চিন্তা কেন করবে তাদের কাছে তো কোন ভুল হয়েছে কিনা তাই জানা নেই আর তওবা ছাড়া কবিরা গুনাহ মাফ হবে না।

》লেখক ও আলোচক : 
#jarifurrahim 

Comments

More Interesting Topics

খ্রিষ্টানদের বড়দিন আর মুসলমানদের ধ্বংসের দিন

শরীয়তের পোশাকের সুন্নত ও নীতিমালা

প্রশংসা করার কুফল ও সঠিক পদ্ধতি