পাবজি(PUBG) ও অন্যান্য খেলাধুলা বিষয়ে ইসলাম
১. পাবজির মধ্যে ইসলামবিরোধী বিষয়সমূহ
কিছু ইভেন্ট বা গেমের অংশে শিরক বা মূর্তি পূজার মতো কাজ করতে হয়।
গেম খেলা কখনও সময়ের অপচয় হয়ে দাঁড়ায়, যা ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপছন্দনীয়।
অতিরিক্ত গেম খেলা মানুষকে নামাজ, ইবাদত, এবং সামাজিক দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে।
যেখানে কিছু মানুষ নামাজের জন্য সময় বের করে না সেখানে অন্য কিছুর জন্য সময় বের করা কোরআন হাদিসের বিরোধী কাজ।
২. ইসলামিক স্কলারদের মতামত
বিভিন্ন ইসলামিক স্কলার, যেমন ড. জাকির নায়েক, গেম নিয়ে সাধারণভাবে যে নীতিমালা দিয়েছেন, তা হলো:
যদি কোনো গেম মানুষকে হারাম কাজে প্ররোচিত করে, তবে তা হারাম।
যদি কোনো গেম নামাজ বা অন্য ইবাদতের ব্যাঘাত ঘটায়, তবে তা হারাম হয়ে যায়।
গেমে যদি সহিংসতা, অশ্লীলতা, বা শিরকের মতো কোনো বিষয় থাকে, তাহলে তা খেলা বৈধ নয়।
= এছাড়াও ডক্টর জাকির নায়েক সরাসরি তার youtube এর এক সাক্ষাৎকারে pubg হারাম বলে উল্লেখ্য করেছেন এবং সেখানে তিনি অনেক বিস্তারিত এ বিষয়ে কথা বলেছেন। বর্তমান জামানার অনেক ইসলামিক স্কলাররা এই বিষয়ে একই মত প্রকাশ করেছেন।
৩. কুরআন ও হাদিসের আলোকে
কুরআন:
"আমি মানুষ এবং জিনকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য।"
— (সুরা আদ-ধারিয়াত, ৫১:৫৬)
অহেতুক কাজ বা খেল-তামাশার পরিবর্তে জীবনের মূল লক্ষ্য ইবাদত এবং উত্তম কাজে সময় ব্যয় করা।
"যারা অর্থহীন কথাবার্তা ও কাজ থেকে বিরত থাকে।"
— (সুরা আল-মুমিনুন, ২৩:৩)
"এবং যারা মিথ্যা ও তুচ্ছ কথা-কাজে অংশগ্রহণ করে না এবং অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকে।"
— (সুরা আল-ফুরকান, ২৫:৭২)
"তারা তাদের সময়কে অনর্থক কাজে অপচয় করে না।" (সূরা ফুরকান: ৭২)
"নামাজ প্রতিষ্ঠা করো এবং অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকো।" (সূরা আনকাবুত: ৪৫)
হাদিস:
"দুইটি নিয়ামত রয়েছে, যা সম্পর্কে বহু মানুষ প্রতারিত: সুস্থতা এবং অবসর।"
— (সহীহ বুখারি, হাদিস: ৬৪১২)
সময় ও সুস্থতাকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবহার না করা প্রতারণা। কারণ আল্লাহতালা অবসর না দিলে আমরা তা পেতাম না। তাই অনেক মানুষ অনেক টাকা পাওয়ার পরেও তাদের ব্যস্ততা শেষ হয় না।
"রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমার সময়ের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে।" (তিরমিজি)
"কিয়ামতের দিন মানুষের পদদ্বয় আল্লাহর সামনে নড়বে না যতক্ষণ না তাকে চারটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে:
১) তার জীবন সম্পর্কে যে, সে তা কিভাবে ব্যয় করেছে।
২) তার যৌবন সম্পর্কে যে, তা কীভাবে কাটিয়েছে।
৩) তার সম্পদ সম্পর্কে যে, তা কীভাবে উপার্জন করেছে এবং ব্যয় করেছে।
৪) তার জ্ঞান সম্পর্কে যে, তা দিয়ে কী কাজ করেছে।"
— (তিরমিজি, হাদিস: ২৪১৭)
"তোমরা তুচ্ছ কাজের মধ্যে সময় নষ্ট করো না বরং এমন কাজ করো যা তোমাদের আখিরাতের জন্য লাভজনক।"
— (তিরমিজি)
"অতিরিক্ত হাসি হৃদয়কে মেরে ফেলে।"
— (তিরমিজি, হাদিস: ২৩০৯)
"একজন ব্যক্তির উত্তম মুসলিম হওয়ার লক্ষণ হলো সে যা তাকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট নয়, তা থেকে বিরত থাকা।"
— (তিরমিজি, হাদিস: ২৩১৭)
[ আমার দায়িত্ব ছিল আমি যা জানি কোরআন এবং হাদিস থেকে তা তোমার কাছে পৌঁছে দেওয়া। এবার তোমার সিদ্ধান্ত; তোমার। ]
৪. পাবজি বা এই জাতীয় খেলা কি হারাম?
নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে পাবজি খেলা হারাম বলে গণ্য হতে পারে:
- যদি এতে শিরক বা ইসলামবিরোধী কোনো বিষয় থাকে।
- যদি এটি ইবাদতের সময় নষ্ট করে।
- যদি এটি আসক্তি তৈরি করে এবং সামাজিক বা ব্যক্তিগত জীবনে ক্ষতি করে।
- যদি এতে সহিংসতা ও অশ্লীলতার প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়।
সবশেষে বলতে চাই পাবজি খেলার ভিতরে এই ধরনের সবকিছুই যুক্ত রয়েছে। বরং এর থেকেও আরো অনেক কিছু হয়তো রয়েছে; যা আমাদের দৃষ্টিতে পড়েনি। সেখানে মানুষ হত্যা, নারীদের অশ্লীল পোশাক, গেম খেলতে যেয়ে মানুষের উত্তেজিত হওয়া, গালমন্দ কথাবার্তা ব্যবহার করা এবং মূর্তির কাছে যেয়ে কোন কিছু চাওয়া, এছাড়াও এমন অনেক প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে বাথরুমে কিংবা মানুষের পোশাকে যা সবকিছু শিরিক এবং গোমরা করে। তাছাড়া গেম এর মধ্যে অবৈধ অশ্লীল ইঙ্গিত করা ইত্যাদি আর কিছু। তবে হ্যাঁ বলা যেতে পারে ইসলামের যত কিছু নিষেধ সমস্ত কিছুই তার ভিতর বিদ্যমান। আর সবথেকে বড় কথা যে জিনিস ইসলাম অনুযায়ী পরিচালিত হয় না, সেই জায়গাতে মুসলমানরাও নিজেদের কোন অবদান রাখতে পারে না। আর এখানে তো ইসলাম অনুযায়ী পরিচালনা দূরের কথা সব ইসলাম বিরোধী কাজ হয়।
এছাড়াও আরো অনেক কিছু বিস্তারিত রয়েছে যেগুলো নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আলোচনা আরো অনেক ব্যাপক হয়ে যাবে। পাবজি সামাজিক, বন্ধু মহল ও পারিবারিকভাবে এবং অন্যান্য আরও অনেক ভাবেই জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই যারা এসব কিছুর মধ্যে জড়িত আছে তারা pubg কে কখনো সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে হলেও সমর্থন করছে। সকলেই সমানভাবে গুনহা এর ভাগীদার হবে। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথ চেনার ও বোঝার তৌফিক দান করুক এবং আমল করার তৌফিক দান করুক।
♣︎ অন্যান্য খেলাধুলার ব্যাপারে ইসলাম
|| জেনে রাখা প্রয়োজন যে শরীয়ত খেলাধুলা একেবারেই হারাম করেনি। তবে মুসলমানদের প্রতিটি কাজ হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। তাই কিছু শর্ত অবলম্বন করে সীমিত খেলাধুলা জায়েজ রয়েছে। সে ব্যাপারে কিছু ইঙ্গিত হাদিস থেকে পাওয়া যায়। ||
[ ★★পরবর্তী আলোচনায় যাওয়ার আগে এবং নিজেদের জন্যে খেলাধুলা করার সুবিধার্থে শরীয়াতের বৈধতা মূলক দলিল জানার পূর্বে বাস্তবিক প্রেক্ষাপটের আলোকে বর্তমান বিশ্বের কিছু খোঁজ খবর নেওয়া যাক★★]
● বিভিন্ন খেলা সমর্থনকারী মুসলিমদের জন্য প্রশ্ন:
১, সব থেকে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট বা ফুটবল; অনেক পরিচিত দেশের বিভিন্ন ধর্মের খেলোয়াড় রয়েছে। কিন্তু ইসরাইল বা ইহুদী গোত্র থেকে সেরা ১০০ খেলোয়ারদের মধ্যে কতজন আছে? আপনি কতজনকে চেনেন?
২, ক্রিকেট বা ফুটবল বাদ দেওয়া যাক আপনার জানা জনপ্রিয় অন্য কোন খেলার ভেতর ইজরাইল বা ইহুদী গোত্রের খেলোয়াড়দের সেরা ১০০ তালিকার অন্তর্ভুক্ত পেয়েছেন?
৩, ইসরাইল বা ইহুদী খেলোয়ারদের কথা থাক। ইসরাইল কিংবা ইহুদী গোত্রের পক্ষ থেকে কোন খেলাকে সমর্থন করা হয় বা কোন খেলাকে কেন্দ্র করে কোন দেশকে সমর্থন করা নিয়ে উদযাপন করতে দেখেছেন; এমন ঘটনা আছে কিনা?
৪, সেরা ১০০ খেলোয়াড়দের কথাও ছাড়ুন আপনার চেনা সকল জনপ্রিয় খেলার মধ্য থেকে পাঁচজন যেকোনো মানের ইসরাইল বা ইহুদী গোত্রের পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের নাম বলতে পারেন?
৫, উপরের প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তরই খুঁজলে দেখা যাবে সেখানে অন্য গোত্রের এবং দেশের মানুষদের মতো তাদের তেমন একটা উপস্থিতি নেই। তবে এখন যদি প্রশ্ন করি, বিশ্বের সেরা ১০০ বৈজ্ঞানিকদের মধ্যে কতজন ইসরাইল বা ইহুদী গোত্র থেকে রয়েছে? তাহলে সংখ্যাটা অনেক বেশি খুজে পাবেন সব মাধ্যম থেকেই।
মুসলমানেরা অহেতুক অর্থহীন কাজের মধ্যে নিজেদের সময়,আগ্রহ এবং অর্থ ব্যয় করার তালে ব্যস্ত। অথচ যারা এই সমস্ত খেলা উদ্ভাবন করেছে তারাও নিজেদেরকে এসবের মধ্যে ব্যস্ত রাখেনি ব্যস্ত তো দূরের কথা যুক্তও রাখেনি। শুধু নিজের বর্তমান সময়ে, নিজে স্বয়ং কোন খেলায় অংশগ্রহণ করা তবুও একরকম যুক্তিপূর্ণ বোঝা যায়। কিন্তু অন্যদের খেলা দেখা এবং তা নিয়ে নিজেদের উল্লাস ও দুঃখ, তর্ক বা উদযাপন ইত্যাদির কোন যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। এগুলোই ইসলামের দৃষ্টিতে অতিরিক্ত এবং নিষিদ্ধ।
অনেকে ভাববেন তাহলে কি ইসরাইল বা ইহুদী গোত্রের লোকেরা কোন খেলাধুলা করেন না! ব্যাপারটা তা নয়। চলুন সংক্ষিপ্ত নজরে দেখে নেয়া যাক তারা কোন খেলা গুলোতে বিশ্বের সেরা তালিকা দখল করে আছে:-
১. শতরঞ্জ (Chess)
ইহুদী খেলোয়াড়রা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাপী শতরঞ্জে আধিপত্য বিস্তার করেছে। কিংবদন্তি ববি ফিশারসহ (Bobby Fischer) বহু ইহুদী গ্র্যান্ডমাস্টার বিশ্বখ্যাত। ইসরাইলেও চেস জনপ্রিয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বহু চেস প্লেয়ারকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সফল করেছে।
২. জিমন্যাস্টিকস এবং আর্টিস্টিক স্পোর্টস
ইসরাইলি খেলোয়াড়রা আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকসে বিশেষ পারদর্শিতা দেখিয়েছে। সাম্প্রতিক অলিম্পিকে তাদের পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য ছিল।
৩. জুডো
জুডোতে ইসরাইলি ক্রীড়াবিদদের অসাধারণ সাফল্য রয়েছে। তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিক পদক জিতেছে।
৪. ফেন্সিং (Fencing)
ইহুদী ক্রীড়াবিদদের ফেন্সিংয়ে অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে। এটি ঐতিহ্যগতভাবে ইউরোপ ও আমেরিকায় ইহুদীদের মধ্যে জনপ্রিয়।
৫. বেসবল
ইসরাইলি বেসবল দল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নিজেদের দক্ষতা দেখিয়েছে। ইহুদী সম্প্রদায়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বেসবল খুব জনপ্রিয় এবং তারা অনেক উচ্চমানের খেলোয়াড় উৎপন্ন করেছে।
৬. সাঁতার
ইসরাইলি সাঁতারুরা ইউরোপীয় এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো পারফর্ম করে থাকে।
এছাড়াও আরো বেশ কিছু রয়েছে, তাদের প্রতিটি খেলা তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী গড়ে তুলতে সহায়ক। যেগুলো একেবারে অহেতুক অর্থহীন নয়; বরং বিনোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক এবং শিক্ষানীয় বৈশিষ্ট্য বহন করে।
মুসলমানদের উন্নতি এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন করার জন্য সর্বপ্রথম নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি ও সিদ্ধান্তের উপর স্বচ্ছতা প্রয়োজন। অনুসরণের পথ পরিবর্তন প্রয়োজন। মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি ও সফলতা সম্মান সব কিছু রয়েছে দ্বীন ইসলামের মধ্যে। আর তার পরিপূর্ণ তরিকা পাওয়া যায় হুজুর ইসলামের সুন্নতের মধ্যে। তা কিয়ামত পর্যন্ত সবার জন্য সব স্থানে সর্ব অবস্থায় সর্ব পরিস্থিতিতে সমান এবং একই রকম থাকবে।
কারণ আল্লাহ তাআলা নিজের নবীকে উদ্দেশ্য করে মানুষের জন্য কোরআনুল কারীমে বলছেন:
"আর আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমত স্বরূপ পাঠিয়েছি।"
(সূরা আল-আম্বিয়া-১০৭)
{ কেউ যদি মনে করে আমার বর্তমান অবস্থায় নবীর সুন্নত পালন করা সঠিক সিদ্ধান্ত নয় তবে সে আল্লাহর কথার বিরোধিতা করলো }
♣︎ খেলাধুলা সমর্থনের ব্যাপারে ইসলামের দলিল,শর্ত এবং উদ্দেশ্য:
রাসূল (সাঃ) বলেছেন:
> "তোমরা তীরন্দাজি ও ঘোড়ায় চড়া শিখো।"
(সহীহ বুখারি, হাদিস নং: ২৮৯৮)
> "রাসূল (সাঃ) হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন।"
(আবু দাউদ, হাদিস নং: ২৫৭৮)
> "রাসূল (সাঃ) তীরন্দাজি ও ঘোড়ায় চড়াকে প্রশংসা করেছেন।"
(সহীহ মুসলিম, হাদিস নং: ১৯১৭)
• খেলাধুলার শর্তসমূহ:
1. ইবাদতের ব্যাঘাত না ঘটানো:
খেলাধুলা এমনভাবে করা যাবে না যাতে ফরজ ইবাদত (যেমন নামাজ) ছুটে যায়।
2. গুনাহের কাজ থেকে মুক্ত থাকা:
খেলাধুলা যেন অহংকার, ঝগড়া, গালি-গালাজ, বাজি ধরা বা অপচয় থেকে মুক্ত থাকে।
3. সতরের প্রতি যত্নবান হওয়া:
খেলার সময় শরীরের সেই অংশ ঢেকে রাখা, যা ইসলাম নির্দেশ করেছে।
4. উৎসাহ প্রদান ও নৈতিকতা বজায় রাখা:
খেলায় অংশগ্রহণের সময় নৈতিক আচরণ বজায় রাখা এবং অন্যদের প্রেরণা দেওয়া।
• জায়েজ হতে পারে যেসব উদ্দেশ্যের উপর:
1. শরীর চর্চা ও আত্মরক্ষার জন্য খেলা
2. স্বাস্থ্য রক্ষা ও বিনোদনের জন্য খেলা
3. দ্বীনের উপকারে আসে এমন খেলা
4. ইত্যাদি
== মুসলমানদের জন্য খেলাধুলা শুধুমাত্র বর্তমান অবস্থায় সাময়িক বিনোদনের জন্য হতে পারে তবে তা নিয়মিত অভ্যাস কিংবা আসক্তি হতে পারে না। খেলা চলার জন্য পূর্বপরিকল্পনা কিংবা ব্যবস্থাপনা করার জন্য বিশেষ অর্থ ব্যয় করা এসব শরীয়ত বিরোধী কাজের অন্তর্ভুক্ত। খেলা মানুষকে সাময়িকভাবে শারীরিক এবং মানসিকভাবে প্রভাবিত করলেও তার ফলাফল মানুষকে প্রভাবিত করবে না। খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে দক্ষ করা নিয়ে মানুষ অধিক চিন্তা কিংবা পেরেশানও হবে না। খেলার ভেতর নিজের অবস্থানকে নিয়েও হতে হবে সাবলীল ও স্বাভাবিক। খেলায় নিজের দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য জড়াজড়ি বা মিথ্যার আশ্রয় ইত্যাদি-এসবের প্রশ্নই ওঠে না যদি খেলা আমার জন্য শুধু মাত্রই নিজের তুচ্ছ অংশগ্রহণ করা ছাড়া আর কিছুই না হয় তাহলেই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা এবং বোঝার পাশাপাশি সেই মত আমল করার তৌফিক দান করুক।==
- লেখক/আলোচক: জি. কে. এম. জারিফ উর রহিম।
#jarifurrahim

Comments
Post a Comment